Tuesday, September 2, 2025

ভিন্নধর্মী চরিত্রে ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন, অস্কার দৌড়ে এগিয়ে

 হলিউডের অ্যাকশন তারকা ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন এবার ছক ভেঙে ভিন্নধর্মী চরিত্রে হাজির হয়েছেন। ৫৩ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে দেখা যাবে ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ সিনেমায়, যেখানে তিনি মিশ্র মার্শাল আর্টস তারকা ও সাবেক রেসলার মার্ক কেরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিনয় তাঁকে অস্কার মনোনয়ন এনে দিতে পারে। গত রোববার ভেনিস উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ারে ১৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে ছবিটি।

‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ নির্মিত হয়েছে মার্কিন মিশ্র মার্শাল আর্টস তারকা ও রেসলার মার্ক কেরের জীবন অবলম্বনে। জনসন বলেন, “অনেক বছর ধরে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষুধা ছিল। কিন্তু ভয় ছিল, চরিত্রের গভীরে যেতে পারব কি না। সুযোগ পেয়ে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছি।” ছবিতে তাঁর সহশিল্পী এমিলি ব্লান্ট মার্ক কেরের প্রেমিকা ডন স্ট্যাপলসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ব্লান্ট বলেন, “জনসন চরিত্রে পুরোপুরি হারিয়ে গিয়েছিলেন। এটা দেখা ছিল শিহরণজাগানিয়া অভিজ্ঞতা।”

সিনেমাটি শুধু লড়াইয়ের গল্প নয়, মার্ক কেরের মাদকাসক্তি ও জটিল প্রেমজীবনের গল্পও তুলে ধরে। ব্লান্টের মতে, “এটি ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব, অস্থিরতা ও নিবেদনের গল্প, যা দর্শকদের চরিত্রের গভীরে নিয়ে যাবে।” ভ্যারাইটি লিখেছে, “জনসনের অভিনয় অবিশ্বাস্য, যেন নতুন এক অভিনেতাকে পাওয়া গেল।” দ্য টেলিগ্রাফ ছবিটিকে পাঁচে চার রেটিং দিয়ে বলেছে, “বাস্তবধর্মী অভিনয়ের ওপরই সিনেমাটি দাঁড়িয়ে আছে।”

বক্স অফিসে নিশ্চিত সাফল্যের প্রতীক ডোয়াইন জনসন। তিনি বলেন, “হলিউডে বক্স অফিসই যখন প্রধান হয়, তখন আপনাকে এক কোণে ঠেলে দেওয়া হয়। বলা হয়, এর বাইরে যেতে পারবে না। তখন নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়। প্রিয়জনের প্রেরণা তখন জরুরি।” তিনি জানান, এই সিনেমা তিনি কাউকে কিছু দেখাতে নয়, বরং নিজের ক্ষুধা মেটাতে করেছেন। “অনেক দিন ধরে মনে হতো, আমি কি নিজের স্বপ্নে বাঁচি, নাকি অন্যের? এই সিনেমা আমার নিজের প্রশ্নের উত্তর,” বলেন তিনি।

জনসনের এই অভিনয় তাঁকে সেরা অভিনেতার দৌড়ে এগিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন ড্যানিয়েল ডে-লুইস, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, ম্যাথিউ ম্যাককনাহে, টিমোথি শ্যালামেসহ আরও অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর গোল্ডেন গ্লোব থেকে অস্কার পর্যন্ত সব বড় পুরস্কারের মনোনয়নে জায়গা করে নিতে পারেন জনসন।

১৯৯০-এর দশকে ‘দ্য রক’ নামে রেসলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন জনসন। ২০০৪ সালে রেসলিং ছেড়ে সিনেমায় মন দেন। ‘জুমানজি’, ‘সান আন্দ্রেয়াস’, ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে তিনি হলিউডের নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক তারকা হয়ে ওঠেন। এবার ভেনিস উৎসবে ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’-এর মাধ্যমে ভিন্নধর্মী এক জনসনকে দেখল দর্শক।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.