Monday, September 1, 2025

ভারতে নিষিদ্ধ ৭টি সিনেমা: যৌনতা ও বিতর্কের কারণে সেন্সর বোর্ডের কাঁচি

ভারতীয় সিনেমা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, এবং হলিউডের পর বলিউডকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। প্রতি বছর ভারতে অসংখ্য সিনেমা নির্মিত হলেও, ভারতের সেন্সর বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার উপর কঠোর নজরদারি করে আসছে। যৌনতা, নগ্নতা বা সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির বিরুদ্ধে সাহসী উপস্থাপনার কারণে অনেক সিনেমা সেন্সরের কাঁচির নিচে পড়েছে। এই প্রতিবেদনে এমন ৭টি সিনেমার কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো যৌনতা কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর কারণে ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে।

১. গান্ডু (২০১০)

বাংলা ভাষায় নির্মিত স্বাধীনধারার এই চলচ্চিত্রটি নগ্নতা, যৌনতা ও গানের এক অভিনব মিশ্রণ ছিল। খোলামেলা যৌন দৃশ্য, হস্তমৈথুন এবং আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের কারণে ভারতের সেন্সর বোর্ড এটির মুক্তির অনুমতি দেয়নি। যদিও বিদেশে সিনেমাটি প্রশংসা পেয়েছে, ভারতে এটি কখনোই মূলধারায় প্রদর্শিত হয়নি। কৌশিক মুখার্জি (কিউ) পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঋ সেন, অনুব্রত বসু ও কমলিকা ব্যানার্জি।

২. কামাসূত্র: দ্য টেল অব লাভ (১৯৯৬)

ভাস্বতীর ‘কামসূত্র’ অবলম্বনে নির্মিত এই ঐতিহাসিক প্রেমগাথায় অভিনয় করেছেন রেজিনা ক্যাসান্দ্রা, ইন্দিরা ভার্মা ও বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেখা। নগ্নতা ও যৌন দৃশ্য ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী মনে করে সেন্সর বোর্ড এটি নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ও প্রশংসিত হলেও ভারতে এটি মুক্তি পায়নি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মীরা নায়ার।

৩. আনফ্রিডম (২০১৫)

সমকামিতা ও ধর্মীয় মৌলবাদ—দুটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা। একাংশে দুই নারীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং অপর অংশে একজন জঙ্গি বন্দীর মানসিক দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে। সহিংসতা ও নগ্নতার কারণে ভারতে এটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং কখনো মুক্তি পায়নি। রাজ অমর মিত্রার পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন প্রীতি গুপ্তা, আদিল হুসেন ও ভবানী লি।

৪. পাঁচ (২০০৩)

পাঁচ বন্ধুর অপরাধ ও পতনের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায় মাদক, সহিংসতা ও যৌনতার সমন্বয় ছিল। সেন্সর বোর্ডের বাধার কারণে এটি কখনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, যদিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। অনুরাগ কাশ্যপের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন কেকে মেনন, অদিত্য শ্রীবাস্তব ও তেজস্বিনী কোলহাপুরী।

৫. সিনস (২০০৫)

একজন ক্যাথলিক পুরোহিতের এক নারীর প্রতি যৌন আসক্তি ও সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ ও সাহসী দৃশ্যের কারণে সেন্সর বোর্ড এটি নিষিদ্ধ করে, ‘সংখ্যালঘু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ এর অভিযোগে। ভিনোদ পাধায়ের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন শাইনি আহুজা ও সীমা রহমানি।

৬. দ্য পেইন্টেড হাউজ (২০১৫)

মালয়ালম ভাষার এই সিনেমায় একজন পুরুষ চিত্রশিল্পীর যৌন বিকারগ্রস্ততা ও এক তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। নগ্নতা ও সাহসী দৃশ্যের কারণে সেন্সর বোর্ড এটিকে ‘অশ্লীল’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করে। স্যঞ্জীব সুরেন্দ্রনের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন নেহা মহাজন, কালাধরন নাসির ও আকরাম মোহাম্মদ।

৭. মালিক (১৯৭২)

এই সিনেমায় ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ ওঠে। যৌনতার পাশাপাশি ধর্মীয় উপাদান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সেন্সর বোর্ড এটির মুক্তির অনুমতি দেয়নি। তবে দর্শকদের মাঝে ছবিটি প্রশংসিত হয়। এস এম শাহিদ পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.