Saturday, August 30, 2025

তাসনুভা তিশা: পর্দার সরলতায় জীবন্ত গল্পকার

 তাসনুভা তিশা—নামটি উচ্চারণ করলেই চোখে ভেসে ওঠে এক মিষ্টি, লাজুক হাসি। তবে এই হাসির পেছনে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। পর্দায় তার উপস্থিতি সহজ, কিন্তু প্রতিটি দৃশ্যে তিনি নিজের স্বতন্ত্র সুর বাজান—কখনো হালকা ঝলক, কখনো গভীর আবেগের স্পর্শ।

তিশার যাত্রা শুরু হয়েছিল মডেলিংয়ের মাধ্যমে। তবে নাটক ও ওয়েব ধারাবাহিক তাকে পর্দার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সময়ই দর্শকদের মনে হতো, এই মেয়ে একদিন বড় কিছু করবে। আজ তিনি একজন পরিণত অভিনেত্রী, চোখে আগের মতোই কৌতূহল, কিন্তু হাতে অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধি।

তিশার অভিনয়ের বিশেষত্ব তার সরলতায়। বড় শব্দের চাপ নয়, বরং ছোট ছোট মুহূর্তে তিনি দৃশ্যে প্রাণ ফোটান। কখনো চোখের কোণে হাসি, কখনো নিঃশ্বাসের সামান্য বিরতি—এসবই দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগায়, ‘এই মুহূর্তে সে কী ভাবছে?’ আর তখনই দর্শক তার চরিত্রে মিশে যান।

ওয়েব সিরিজ হোক বা টেলিফিল্ম, রোমান্স হোক বা সমাজের গল্প—তিশার চরিত্রগুলো সবই জীবন্ত। তিনি কখনো হাহাকারে, কখনো গভীর চিন্তায়, আবার কখনো হঠাৎ হাসির খোরাক দিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করেন। তার অভিনয়ে দর্শক হাসে, কাঁদে, ভাবতে বসে—সবকিছু একসঙ্গে।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিশার সরলতা আলাদা করে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বড়সড় তারকা শৈলী প্রদর্শন করেন না, বরং যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই প্রকাশ করেন। তার পোশাক, সাজ—সবই তার পরিচয়ের অংশ, কিন্তু কখনোই নাটকীয় নয়। এই সততাই তাকে দর্শকের কাছে আরও প্রিয় করে।

নির্মাতারা জানান, তিশার সঙ্গে কাজ করা মানে পেশাদারিত্ব আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মিশ্রণ। তিনি গল্পের ভেতর মিশে যান, কিন্তু নিজের পরিচয় কখনো হারান না। এটাই তাকে এ সময়ের দর্শকের কাছে বিশেষ করে তুলেছে।

তাসনুভা তিশার ফ্রেমে থাকা শুধু সিনেমা দেখার আনন্দ নয়, বরং এক ছোট্ট যাত্রা। তার চরিত্রের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে দর্শক নিজেকে খুঁজে পান। এই খোঁজই তাকে অন্য অভিনেত্রীদের থেকে আলাদা করে। তিশা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি একজন বন্ধু, একজন গল্পকার, যিনি দর্শকের চোখে হাসি ফোটান, মনে প্রশ্ন জাগান এবং মনে করিয়ে দেন—মানুষের আবেগ ছাড়া পর্দার গল্প অসম্পূর্ণ।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.