Monday, August 11, 2025

বিপাশা বসু ও অমর সিংয়ের বিতর্কিত অডিও: বলিউড-রাজনীতির কুখ্যাত অধ্যায়

 বলিউডের গ্ল্যামার কুইন বিপাশা বসু তার অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ‘রাজ’, ‘জিসম’, ‘নো এন্ট্রি’, ‘ধুম ২’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের ‘সেক্স সিম্বল’। কিন্তু ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা এই বাঙালি অভিনেত্রীর জীবনে একটি বিতর্কিত ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছিল, যা বলিউড ও রাজনীতির সংযোগের এক কুখ্যাত উদাহরণ হয়ে আছে।

২০১১ সালে হঠাৎ প্রকাশ্যে আসে একটি টেলিফোন আলাপচারিতার রেকর্ডিং, যা নাকি কয়েক বছর আগে রেকর্ড করা হয়েছিল। কথিত অডিওটিতে ছিলেন বিপাশা বসু এবং সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী নেতা অমর সিং। রেকর্ডিংটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা রাজনীতি ও বিনোদন জগতে শোরগোল ফেলে দেয়। অডিওতে শোনা যায় হালকা খুনসুটি ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথন। বিপাশাকে বলতে শোনা যায়, “বয়স কোনো ব্যাপার না।” উত্তরে অমর সিংয়ের মন্তব্য ছিল, “বয়স শুধু দুই পায়ের মাঝখানে ব্যাপার করে।” তিনি আরও বলেন, বয়স নির্ভর করে যৌনক্ষমতার ওপর।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ তখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবু এই অডিও বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। জনমনে শুরু হয় তুমুল চর্চা—শুধু তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নয়, গণমাধ্যম ও জনতার অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়েও। বিপাশা বসু ও অমর সিং দুজনই এই অডিওর সত্যতা অস্বীকার করেন, একে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে দাবি করেন। ধীরে ধীরে তারা এই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু এই ঘটনা বলিউড ও রাজনীতির মধ্যে এক কলঙ্কজনক সংযোগ হিসেবে রয়ে যায়।

অমর সিং ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এক বর্ণময় ও বিতর্কিত চরিত্র। কলকাতায় তৎকালীন কংগ্রেস নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অধীনে ছাত্রসংগঠনের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। পরে দিল্লিতে এসে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন। অমিতাভ বচ্চন ও তার পরিবারের সঙ্গে ছিল তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অনিল আম্বানির সঙ্গেও ছিল বন্ধুত্ব। তবে পরে জয়া বচ্চনের সঙ্গে দলীয় ঝামেলার কারণে বচ্চন পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। অনিল আম্বানির সঙ্গেও ভেঙে যায় বন্ধুত্ব।

২০২০ সালের ২ আগস্ট সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ৬৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন অমর সিং। কিডনির অসুখে ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির একটি যুগের অবসান ঘটে, তবে বিপাশা বসুর সঙ্গে তার কথিত অডিও কেলেঙ্কারি এখনো চর্চার বিষয়।


Share This Post

শেয়ার করুন

Author:

Note For Readers: The CEO handles all legal and staff issues. Claiming human help before the first hearing isn't part of our rules. Our system uses humans and AI, including freelance journalists, editors, and reporters. The CEO can confirm if your issue involves a person or AI.