কয়েক দিন আগে মেয়ে আথিয়া শেট্টির সন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠী। এবার তিনি লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন।
সম্প্রতি ভারতীয় বিনোদনকেন্দ্রিক ওয়েবসাইট পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনীল শেঠী বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ধৈর্যের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, “বিয়ের কিছু দিন পর জীবনে আপসের প্রয়োজন হয়। যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা জরুরি। একে অপরের জন্য বাঁচতে হয়। এরপর জীবনে সন্তান আসে। স্ত্রীদের এটা বোঝা খুব জরুরি যে, স্বামী যদি ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানকে আমি সামলাব।”
তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, স্বামীরাও অবশ্যই সন্তানের দেখভালের অংশীদার হবে। তবে বর্তমানে সব বিষয়ে এত চাপ রয়েছে…”। সুনীলের মতে, এখনকার সময়ে সবাই পরামর্শ দেয়, কিন্তু বাস্তব জীবন শেখায় কীভাবে মা বা বাবা হতে হয়। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় ঠাকুমা, মা, বোন বা শ্বশুর-শাশুড়ির মতো অভিজ্ঞতা থেকে শেখা ভালো। কিন্তু এখন অনেক কিছু বদলে গেছে। এখন বিয়ের পরপরই ডিভোর্স হয়ে যায়।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে সুনীল শেঠী মানা শেঠীকে বিয়ে করেন। তারা সবসময় একে অপরকে সমর্থন করে এসেছেন। সুনীল একবার জানিয়েছিলেন, মানা তার সম্প্রদায়ের না হওয়ায় তার বাবা-মা এই বিয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি প্রকাশ করেন, তিনি যখন তার প্রথম ছবিতে স্বাক্ষর করেন, তখনই মানাকে বিয়ে করেন। কারণ মানা সবসময় তার পাশে ছিলেন। অনেকে তখন সুনীলকে বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ এটি তার ফ্যান ফলোয়িংয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারত। কিন্তু সুনীল কারও কথা না শুনে বিয়ে করেন।
বলিউডের অন্যতম সফল দম্পতি হিসেবে পরিচিত সুনীল ও মানা। কিন্তু তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—বিয়ে টিকিয়ে রাখা বা সুখী দাম্পত্যের দায়িত্ব কি শুধুই মেয়েদের? এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।